লিনতা ইসলাম। বেড়ে উঠেছেন ঢাকার খিলগাঁও তে। তার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে অনন্যতার চাপ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তার রয়েছে অসামান্য ফলাফল। ফলত তাকে মেধাক্রমের প্রথম দিকেই খুঁজে পাওয়া যায়। একজন দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামার এবং ভোজনবিলাসী লিনতার ভ্রমণে রয়েছে অসামান্য আগ্রহ। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ন বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আইভি লীগ খ্যাত সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগদান করার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ৩ বছরের জন্য ছেড়ে গেছেন। চলুন লিনতার কাছ থেকে জেনে নেই অস্ট্রেলিয়াতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাইলে কি কি পন্থা অবলম্বন করা উচিত:-
লিনতার মতে অস্ট্রেলিয়াতে পূর্ণ স্কলারশিপ পেতে হলে আপনাকে পিএইচডিই করতে হবে। সাধারণত ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স পর্যায়ে ফুল ফান্ড দেয়া হয় না। একজন আবেদনকারীর স্কলারশিপ পাওয়ার যেই যেই বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখা হয় চলুন সেগুলি জেনে নিই।
১। আইএলটস – এটি অত্যাবশ্যক। আপনি কত ভালোভাবে ইংরেজি পড়তে, বলতে, লিখতে এবং শুনতে পারেন তার প্রমাণ হচ্ছে আইএলটস স্কোর। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ কিংবা এডমিশন পেতে প্রতিটি মডিউলে সর্বনিন্ম ৬ লাগবে এবং গড়ে ৬.৫ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে আইএলটস ছাড়াও আরও অনেক পরীক্ষা আছে যেগুলো দিয়ে আপনার ইংরেজীর দক্ষতা নির্ধারণ করা যায়। তাই যাদের আইএলটস নাই তারা চাইলে সেই পরীক্ষাগুলোও দিতে পারেন।
২। সিজিপিএ – বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এডমিশনের জন্য সাধারণত সিজিপিএ ৩.৫০ চায় (৪.০০ স্কেলে)। তবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনার একটু বাড়তি সিজিপিএ দরকার হতে পারে। কোন প্রফেসর হয়তো ৩.৬ চাইবে, কেউ কেউ আবার ৩.৭ প্রত্যাশা করবে। স্নাতক/ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আপনার ক্লাস পজিশন যদি প্রথম ৩ অথবা ৫ এর মধ্যে থাকে তাহলে সেটি এককথায় সোনায় সোহাগা। তবে অনেকক্ষেত্রে এর চেয়ে কম সিজিপিএ নিয়েও ফান্ডিং এর ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে গবেষণাপত্র কিংবা ভাল প্রতিষ্ঠান অথবা দূরদর্শী কোন প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা। একটা কথা মনে রাখা বাঞ্চনীয়, অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর এর পরেই সরাসরি পিএইচডি তে আবেদন করা যায় না। মাস্টার্স ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। তবে বুয়েট অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাশকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য। বাংলাদেশের অন্নান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মাস্টার্স ব্যতীত পিএইচডি করার সুযোগ নেই বললেই চলে!
৩। পেপার পাবলিকেশন – উপরের ২ নং অথবা ১ নং পয়েন্টে কিছু কম থাকলে শুধুমাত্র গবেষণাপত্র দিয়েই স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব। যে কোন ভালো জার্নাল অথবা কনফারেন্সে প্রকাশিত পেপার স্কলারশিপ আবেদনের সময় অনেক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। তাই বেশী বেশী গবেষণাপত্র বের করার চেষ্টায় মগ্ন থাকা উচিত।
৪। কাজের অভিজ্ঞতা– এটা থাকলে ভালো। যেমন, আমি যখন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করি তখন আমার চাকুরীর অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু যখন ইন্টারভিউ দেই তখন আবার চাকরি হয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে স্কলারশিপ আবেদনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই এটির গুরুত্ব তখনই যখন আপনার আগের পয়েন্টগুলোতে কম বেশী থাকবে।
৫। সহ-শিক্ষা কার্যক্রম – বিশেষত যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশুনা করেছেন তাদের জন্য ভালো প্রোগ্রামিং এর দক্ষতা থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি কোড করতে পারেন কিনা সেটা যাচাই বাছাই করেই তারা আপনাকে নিবে। সেই ক্ষেত্রে এসিএমের সমস্যাগুলো বেশী বেশী সমাধান করা এবং প্রোগ্রামিং কম্পিটিশনগুলোতে ভালো ফলাফল করা থাকলে এই বিষয়গুলো আপনার কারিকুলাম ভিটে কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
৬। অস্ট্রেলিয়াতে এডমিশন পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে একজন প্রফেসরের শরণাপন্ন হতে হবে যিনি আপনাকে আপনার পিএইচডি চলাকালীন সময়ে দিকনির্দেশনা দিতে রাজি হবেন। সে ফান্ড দিক আর না দিক, সেটা মুখ্য বিষয় না। ভর্তির পরেই কেবল আপনি প্রফেসরের তত্ত্বাবধানের প্ৰয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারবেন।
৭। এরপর আসে আইকিউ টেস্ট। আপনাকে ইন্টারভিউতে যে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবে সেটার উত্তর খুব কম সময়ের মধ্যে দিতে হবে এবং প্রফেসরকে বুঝতে হবে যে, আপনি প্রফেসরের রিসার্চ টিমে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারবেন।
দ্রষ্টব্য এটি শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য যারা সত্যিই বিদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আবেদনকারীরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অফিসে :
সরাসরি যোগাযোগ বা মৌলিক তথ্যের জন্য ফোন 01911878274 এ সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। যদি আপনি আরও যেতে চান তবে পাসপোর্ট সহ আপনার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথির সাথে আমাদের অফিসে যান।
সানরাইজ এডুকেশন কন্সালটেন্টস
ফোন: 01911878২74; 01707272625
ইমেইল: info@sunrise-bd.net
ওয়েবসাইট: www.sunrise-bd.net

No comments:
Post a Comment